কঙ্গনার বিরুদ্ধে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ আদালতের

ছায়াপথ ডেস্ক : ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে কঙ্গনা রনৌতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে মুম্বাইয়ের একটি আদালত। বলিউডের একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের করা মামলার ভিত্তিতে শনিবার এই নির্দেশ আসে। খবর- সংবাদ প্রতিদিন।

ওই ডিরেক্টরের অভিযোগ, বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে ক্রমাগত অপমান করে চলেছেন কঙ্গনা, তারই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনে দুটি ধর্মের বিভাজন টেনে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছেন। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে এ ধরনের উত্তেজনার মন্তব্য করছেন কুইন নায়িকা।

মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ম্যাজিস্ট্রেট মেট্রোপলিটন কোর্টের তরফে পুলিশকে কঙ্গনা ও তার বোন রঙ্গোলির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক অসন্তোষ ও ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন কঙ্গনা ও রঙ্গোলি, এই অভিযোগ এনে কাস্টিং ডিরেক্টর তথা ফিটনেস ট্রেনার মুন্নাওয়ার্লি সৈয়দ মামলা দায়ের করেছিলেন আদালতে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ, ২৯৫এ, ১২৪ ধারায় তিনি অভিযোগ দায়ের করেন।

মুন্নাওয়ার্লি সৈয়দ বিশেষভাবে কঙ্গনার সেই টুইটের ওপর জোর দিয়েছেন যেখানে নায়িকা মুম্বাইয়ের তুলনা টেনেছেন ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীরের’ সঙ্গে। তার দাবি, কঙ্গনার এই ধরনের মন্তব্যের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল তা খতিয়ে দেখার দরকার আছে। এর তদন্ত হওয়া একান্ত প্রয়োজন। এই নির্দেশ জানার পর পাল্টা টুইট করেছেন কঙ্গনাও।

কয়েক দিন আগেই কৃষি বিলের বিরোধীদের পথে নামা হাজার-হাজার চাষির বিরুদ্ধে তিনি যে মন্তব্য করে বসেছেন, তাতে তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল ভারতের অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে কৃষক সমাজের একটা বড় অংশ। কৃষি বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখানো কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের তুলনা করেছিলেন কঙ্গনা। পাঞ্জাবের অমৃতসরে কৃষকেরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেই কঙ্গনার কুশপুত্তলিকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। পরে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয় আদালত।

এদিকে প্যারিসের একটি হত্যার ঘটনায় সরব হয়েছেন কঙ্গনা রনৌত। এ নিয়ে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে দায়ী করে অত্যন্ত কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন তিনি। বলা হচ্ছে, সরাসরি ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষ প্রকাশ করেছেন বলিউড অভিনেত্রী।

শুক্রবার প্যারিসের রাস্তায় শিক্ষকের মাথা কেটে ফেলে এক মুসলিম যুবক। ঘটনার বয়ানে বলা হচ্ছে, বাক্‌স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি কার্টুন দেখিয়েছিলেন তিনি। সে কারণে এ ঘটনা।

শনিবার টুইটারে তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন কঙ্গনা। নাম উল্লেখ না করেই সেখানে ইসলাম ধর্মকে আক্রমণ করেন। সঙ্গে নিজ দেশের বুদ্ধিজীবীদের এক হাত নেন।

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি-ঘনিষ্ঠ এই অভিনেত্রী লেখেন, একটি কার্টুনের জন্য এক শিক্ষকের মাথা কেটে ফেলা হলো। আমি শুধু কল্পনা করতে পারি অতীতে আমাদের লোকজনের কী অবস্থা করেছিল এই হানাদাররা। আজকের ডিজিটাল যুগে শিক্ষিত হয়েও এদের আচরণ রাক্ষসের মতো। যাযাবর অবস্থায় এরা ভারতের কী দশা করেছিল।

কঙ্গনা আরও লেখেন, আমি ভেবে অবাক হই, এই ধর্ম এতো অসহিষ্ণু। পুরুষতান্ত্রিক এই ধর্মে নারী, পশু, প্রকৃতি কারোরই উপাসনা করা হয় না। অথচ আজকের দিনে এটাই সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা ধর্ম। বুদ্ধিজীবীরাও এই ধর্মকেই সমর্থন করেন। এমনটাই কী করে হয়?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।