জামালপুরে ধানে মিলিবাগ পোকার আক্রমণ

ছায়াপথ ডেস্ক : জামালপুরের জেলা জুড়েই মিলিবাগ বা ছাত্রাক পোকার আক্রমনে রোপা আমন ধানের ক্ষতি হচ্ছে। ৭টি উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই কম-বেশি এই পোকার আক্রমন লক্ষ করা গেছে। এই পোকার আক্রমনের ফলে ধান গাছে মড়ক সাদা-লালচে হয়ে মারা যায়। একটি ধান গাছে কমপক্ষে ৪/৫টা পোকার আক্রমন লক্ষ করা গেছে। এই পোকা ছাড়াও আরেক জাতীয় পোকার উপদ্রবের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। পোকাগুলো আকারে তুলনামূলক ছোট। দেখতে স্যাতস্যাতে সাদা। কৃষক সুরুজ্জামান (৪০) এবং রবিউল ইসলাম (৩৭) জানান-এবারে পোকার আক্রমনটা বেশি। অন্যান্য বছর ২/১ কীটনাশক ব্যবহার করেই পোকা দমন করা যেত। এ বছর কয়েকবার কীটনাশক ছিটিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। অপর কৃষক আইয়ুব আলী (৫০) জানান শুকনো ক্ষেতে এই পোকার আক্রমন বেশি। স্থানীয়রা জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করছেন।

এ ব্যাপারে মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান-পোকার আক্রমনের পরিমান খুব বেশি না। তবে পোকা দমনের বিষয়টি কৃষককে ভাবিয়ে তোলেছে। এই পোকা ধান গাছের পাতা ও ডগার রস খেয়ে গাছকে নিস্তেজ করে দেয়। পোকা দমনের জন্য ক্ষেতে পানি দিতে কৃষকদের বলা হচ্ছে। যারা ক্ষেতে পানি দিচ্ছে না। তাদের ক্ষেতে পোকার আক্রমন বেশি হচ্ছে।

জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আজম খান জানান-মাঠ পর্যায়ে অনেক কৃষকের ক্ষেত পরিদর্শন করেছি। মিলিবাগ দেশীয় পোকার আক্রমন আগেও ছিল। কিন্তু এবার নতুন জাতের জায়ান্ট পোকার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই জায়ান্ট সচরাচর আফ্রিকা জঙ্গলে দেখা যায়। এরা খর্বাকৃতি, সাদা এবং উড়তে জানে না। সম্ভবত প্রবাসীদের লাগেজ-পোষাক কিংবা অন্য কোন কিছুর সাথে মিশে এই দেশে প্রবেশ করে থাকতে পারে। মিলিবাগ জাতীয় পোকার মল মিষ্টি। তাই মল কেন্দ্রিক পিপড়ার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। পোকার মলের জন্য পিপড়াকুল এই পোকাকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় টেনে হিচড়ে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও এই জাতীয় পোকার উপর একধরণের আবরণ তৈরি হওয়ায় পোকার গায়ে কীটনাশক প্রবেশ করতে পারে না। ফসলসহ সব্জি, ফল মূলেও এই পোকা আক্রমন করে। গাছের গোড়া অপরিচ্ছন্ন কিংবা শোকনো থাকলেই এই পোকার আক্রমনের সম্ভাবনা বেশি। এজন্য গাছের গোড়ায় পানি দেয়াই নিরাপদ। একই সাথে গাছের ফল কিংবা সব্জিতে এই পোকার আক্রমন হলে সাবান বা ব্লিচিং মিশ্রিত পানি প্রয়োগ করলেও সুফল পাওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।