নীলফামারীতে বাঁশ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে

ছায়াপথ সংবাদ : নীলফামারীর সোনারায় ইউনিয়নের পাটুনিপাড়া পল্লীতে বাঁশের তৈরী সামগ্রীর কদর কমতে বসেছে। জনজীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প। গৃহে ব্যবহৃত প্লাস্টিক সামগ্রীর দাম তুলনা মূলক কম থাকায় বাঁশের তৈরি হস্ত শিল্পের পরিবর্তে মেশিনে তৈরি প্লাস্টিক সামগ্রীর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে মানুষের। ফলে গ্রাম বাংলা থেকে বাঁশ শিল্প অনেকটা বিলুপ্তির পথে। সোমবার গ্রামটিতে দেখা যায় এ শিল্পের সাথে জড়িত অনেকেই বাপ-দাদার আমলের পেশা ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছে অন্য পেশায়। প্লাষ্টিক সামগ্রীর আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি। বাঁশশিল্প আমাদের দেশীয় লোক সংস্কৃতি ও কারুশিল্পের সতন্ত্র প্রকাশ। সরকারী সহায়তা পেলে হয়ত ঘুরে দাড়াতে পারে এ শিল্পের সাথে জড়িত পাটুনিপাড়ার লোকজন।

গ্রামটি ঘুরে দেখা যায়, বাঁশের পণ্যসামগ্রী তৈরীর কাজ চলছে। গ্রামীণ একটি পরিবারের বিভিন্ন বয়সী লোক এ কাজ করছেন। এই গ্রামে বাঁশদিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে প্রায়টি হিন্দু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। চালনা, কুলা, ডালি, পাখা, ঝুঁড়ি, ফুলদানি সহ বৈচ্না, চাঁই, টেটা, খারি প্রভৃতি সামগ্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে হাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় নিয়োজিতরা জানায়, বাপ-দাদার হাত ধরে এ পেষায় আসা। এখানকার পরিবার গুলোর দরিদ্রতা তাদের নিত্য সঙ্গী। দু’চালা ঘর ছাড়া তাদের কোন জায়গা-জমি নেই। সব সময় অভাব অনটন থাকায় জীবন নির্বাহ করা খুবই কষ্টের। বাঁশ শিল্প বদলাতে পারেনি তাদের ভাগ্য। তাদের অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। গত কয়েক বছরে বাঁশের দাম অনেক বৃদ্ধি পয়েছে। ১টি বাঁশ দিয়ে ৩-৪ টি ঝুঁড়ি তৈরি করা যায়। বাঁশের সামগ্রী বানানোর জন্য মুলিবাঁশ, তল্লাবাঁশ ও বইরা বাঁশ প্রয়োজন হয়। বর্তমানে বাঁশের উৎপাদন কমে গেছে। বাঁশ সংগ্রহ করে কাজ করা এখন বেশ কঠিন। সারা বছরই বাঁশের তৈরি বিভিন্ন প্রকারের পণ্য হাট বাজারে বিক্রি করা হয়। এগুলো বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে তাদের সংসার।

কাঠ ও বেতের পাশাপাশি প্রাচীনকাল থেকে বাঁশের জিনিস ব্যবহার করার চল আছে বাঙালিদের। বাঁশশিল্প আমাদের দেশীয় লোক সংস্কৃতি ও কারুশিল্পের সতন্ত্র প্রকাশ। বাঁশ ছাড়া জাতি হিসেবে আমরা নিজেদেরকে কল্পনা করতে পারিনা, আমাদের জীবনে বাঁশ ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। বাঁশের বাঁশি থেকে শুরুকরে বাঁশের সবকিছুই মনকাড়া ও আমাদের দৈনন্দিন জীবন কে স্পর্শ করে প্রতিনিয়ত ৷ গ্রাম ও শহরে বাঁশের পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাঁশ দিয়ে প্রয়োজনীয় ও সৌখিন বিভিন্ন জিনিস বানানো হয়।

সরকারী সহযোগীতা পেলে হয়তো এ শিল্পের সাথে জড়িত লোকদের টিকিয়ে রাখা সম্ভব। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পারলে দেশের চাহিদা মেটনোর পর বাঁশের তৈরি সৌখিন পণ্যসামগ্রী বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।