জীবনের পাতা থেকে “মায়ের হাতে রান্না করা মাংস খাওয়া হলোনা” (ছোট গল্প)

সাংবাদিক এম.ওমর ফারুক :


আমি বলছি আমার প্রাণপ্রিয় একমাত্র ভাইয়ের কথা। আপনারা অনেকেই অবগত আছেন যে আমার ভাই মিজানুর রহমান না ফেরার দেশে চলে গেছে। ঈদের দিন সকাল ৬টায় আমার দরজায় ডাক দিয়ে বলে ভাই তারাতাড়ি গোসল কর নামাজ সকাল সাড়ে সাতটায়, সেই সাথে আমার ছেলেকেও ডাকলো আমরা যথারিতি গোসল করলাম, গোসল শেষে বারান্দায় মাদুর পেতে আমার পরিবারের তার ছেলেসহ আমরা চার জন বসলাম। প্রতি ঈদের ন্যায় আমার নয়ন মনি মমতাময়ি মা আমাদের পাঞ্জাবী পরিয়ে চোখে সুরমা ও আতর লাগিয়ে দিল। যখন ওকে শুরমা লাগায় তথন সে বললো মা আমাকে আরও ভাল করে সুরমা ও আতর দে, মা বললো কেনে বাবা তোকে তো সুন্দর লাগছে তখন সে বারান্দায় বেসিং এর গ্লাশে দাড়িয়ে দেখে বললো মা শুরমাটা আরও ভাল করে দাও, মা কেদে ফেললো। তারপর মা সবার হাতে জায়নামাজ দিল এবং সবার কপালে চুমু দিল। আমরা নামাজের জন্য রওনা দেব এমন সময় সে আমাকে বললো ভাই একটা ছবি তুলি আমি তাকে বললাম পরে, সে আবারও দুই থেকে তিন বার বললো কিন্তু আর ছবি তুলা হলোনা।

নামাজ শেষে হল মুসল ধারে বৃষ্টি হচ্ছে একই ছাতার নীচে আমরা দুই ভাই দুই ছেলে ভিজে বাড়িতে আসলাম তারপর বৃষ্টি শেষ হল কোরবানি করলাম। আমার ইচ্ছে ছিল তার নামেও কোরবানি হবে সে বললো না। মা, ভাবি ও তোর নামে কোরবানি হবে। ওর কথা মতই তাই করলাম। কোরবানি শেষ করে বাসায় এসে একটু করে সবাই মিলে সেমাই খেলাম। বৃষ্টির কারনে কোরবানি আমার বাড়ির রাস্তায় করেছিলাম আমি রক্ত পরীস্কার করার জন্য মটার চালিয়ে পানি দিচ্ছিলাম। এমন সময় আমার বোন আমাকে ডাকতে এলো বললো মিজানুর ভাই তোমাকে ডাকছে ভাত খাওয়ার জন্য। (আমরা কিন্তু প্রতি ঈদে সকালে ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খেতাম) বোনের জবাবে আমি বললাম আমি পরে খাব, আবার কিছুক্ষন পর এমনিভাবে তিন থেকে চার বার আমাকে ডাকছিল যে সবাইকে নিয়ে সে একসাথে খাবে কিন্তু তা আর হলোনা এ নিয়ে তার মন খারাপ আমার উপর, আমি বললাম তুইতো খাইছিস। সে গরু তৈরী করতে গেল।

আমাদের গরু প্রায় দুপুর ১টার মধ্যেই তৈরী হয়ে গেছে। তারপর সে মাংস নিয়ে বাড়ি এলো বারান্দায় বসে শরিয়ত মোতাবেক তিন ভাগ করে যথারিতি নিয়মে মাংস পলিথিনে প্যাকিং করে আমার বড় ছেলের মাধ্যমে পাড়ায় বিলি করতে দিল আর ২০ কেজি মাংস রান্না করার জন্য মেফে দিয়ে বললো আজকের মাংস মা রান্না করবে, সে তেলসহ যাবতীয় উপকরণ মায়ের কাছে দিল । মা রান্না করার জন্য চুলায় বসিয়ে দিল এরই মধ্যে সে আমাদরে আত্মিয় বাসায় মাংস দেয়ার জন্য প্রস্ততি নিল। একটি কালো থলেতে ৬টি মাংসের প্যাকেট (টোপলা) নিয়ে আমাকে বললো ভাই হুন্ডায় তেল আছে? আমি বললাম আছে। সে মাংস নিয়ে যাবে আমার ফুপুর বাসা চৌমুহনী বানিয়াপাড়া, সেখান থেকে আরও এক ফুপাতো বোনের বাসা বসুনিয়াপাড়া, আবার সেখান থেকে পলাশবাড়ি ফুপুর বাসায় সেখান থেকে সে বাড়ি ফিরবে।

সময় দুপুর প্রায় ২টা সে রওনা হবে এরি মধ্যে সে মাকে বললো মা ভাল করে রান্না কর আমি মাংস দিয়ে এসে আমরা একসাথে খাব। তারপর সে আমাকেও বললো পাড়ায় মাংস দেয়া কি শেষ আমি বললাম হৃদয় (আমার রড় ছেলে) দিতে গেছে। সে বললো তুই আবার আগে খেওনা ভাই আমি এসে তারপর একসাথে খাব আমি রাগ করে বললাম এতবার বলার লাগে তুই দিয়ে আয় আবার পূনরায় মাকে বললো মা ভাল করে রান্না কর আমি যাব আর আসবো।

বেলা প্রায় ৩টা ফোন আসলে আমার ভাইয়ের স্ত্রীর কাছে, যে ফোন দিয়েছিল সে আমার ভাইয়ের ছোট্ট শালিকা সে তার বোনকে বললো ভাবিকে দাও (আমার স্ত্রীর কাছে) তারা দুজনে গরুর ভুরী গোসল খানায় পরীস্কার করার কাজে ব্যাস্ত ছিল আমি বারান্দায় বসে আছি এমন সময় আমার স্ত্রী বললো তুমি হাসপাতালে যাও আমি বললাম কেনে সে বললো মিজানুর হুন্ডা এক্সিডেন্ট করছে। খবর শুণে আকাশ ভেঙ্গে পড়লো আমার মাথায় আর গোটা পরিবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। খুবদ্রুত আমার গোটা পরিবারের লোজনসহ প্রায় ৬টি হুন্ডা নিয়ে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে মুহুর্তের মধ্যে উপস্থিত হলাম। দেখলাম ওই ধরনের কোন রোগী আসেনি আর এরই মধ্যে আমার এলাকার লোক পুরো হাসপাতাল ভরে গেল। এরই মধ্যে আমরা কউে চৌমুহনী আবার কেউ দেবিগঞ্জের দিকে বেরিয়ে পরলাম। আমি সৈয়দপুর স্টেডিয়াম পার হতেই চোখে পড়লো একটি ভ্যানে দুইটি আহত ছেলেকে নিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালের দিকে তারপর দেখি অপর একটি ভ্যানে আমার ভাই, দেখলাম তার নাক ও মুখ দিয়ে প্রচুর রক্ত ঝড়ছে নেয়া হল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক কোন চিকিৎসা না দিয়ে বললো রংপুর নিয়ে যান, আমি বললাল এম্বুলেন্স প্রতিউত্তরে বললেন নেই, কেন নেই বললো ঈদের দিন তাই সবাই ছুটিতে আমি আবার বললাম জরুরী বিভাগেতো এম্বুলেন্স থাকার কথা তনি বললেন ড্রাইভার নেই আর তর্ক না করে বিকল্প অবস্থায় এম্বুলেন্স ম্যানেজ করে সোজা রংপুর মেডিকেলে। আর আমার পরিবারের আমার ভাইসহ কেই ঈদের মাংস খাওয়া হল না।

রংপুর মেডিকেলে যা হলঃ
জরুরী বিভাগে যাওয়ার পরে প্রথমে ১শত টাকা তারপর আহত বেক্তির নাম ও ঠিকানা লিখেন। জরুরী বিভাগে ডাক্তার নেই কিছুক্ষন ঘোড়াঘুরি করে তিনি ডাক্তার কি না জানিনা একটা কাগজ হাতে ধরিয়ে পাঠালেন ৪র্থ তলায় ১৪নং ওয়ার্ডে সার্জারী বভিাগে। ট্রেলিতে করে সঙ্গে একজন মহিলাকে দিল। সেখানে দেখি কর্মরত এক ভদ্য মহিলা মাথা নিচু করে টেবিলে ঘুমাচ্ছে, জিঙ্গাসা করলাম আপনি কি ডাক্তার প্রতি উত্তরে কিছু না বলে বললো কি দরকার তখন আমি কাগজ দিলাম কাগজ দেখে বললেন রোগীকে ৯নং বেডে নিয়ে যান, তারপর আর এক বিড়াম্বনা ২শত টাকা না দিলে ট্যোলি থেকে রোগী নামাবেনা। আমি বললাল কিসের টাকা মহিলা বললো ট্যোলি ও আমার মজুরী কথা না বাড়িয়ে ২শত টাকা দিয়ে তারপর বেডে নেয়া হল। তারপর ওই মহিলা ডাক্তার ও দুইজন সিসটার রোগীর গায়ে কোন স্পর্শ না করে লম্বা একটা ঔষধের স্লিপ দিল। যথারিতি ঔষধ আনা হল তারপর আবার গিয়ে বললাম স্যার ঔষধ আনা হয়েছে তিনি বললেন এটা আমার কাজ না আমি বললাম কার কাজ উনি বললেন লোক আছে। তৎখনাত একজন ছেলে এসে বললো ভাই ব্যবস্থা হয়ে যাবে আমি সব করে দিব আমি বললাম আপনি কে? তিনি বললেন মেডিকেলের লোক, আমি তাকে বললাম ভাই অনুরোধ করছি আপনার হাত ধরে বলছি জলদি করুন তখন তিনি বললেন ব্যবস্থা করতে হবে আমি রাজি হয়ে গেলাম সঙ্গে সঙ্গে ওই দুই নার্স এসে স্যালাইন ও সুই পুশ করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর আবারও ওই মহিলা ডাক্তারের কাছে গেলাম দেখি দুইজন মহিলা বসে আছে বললাম স্যার ৯নং বেডের রোগীর অবস্থা ভাল না তারা দুজনে বললেন আজকে স্যার নেই কাল সকালে আসবে। আমি আবার চলে গেলাম রোগীর কাছে। দেখি তার স্বাসকষ্ট হচ্ছে, আমি ধারনা করলাম তার ব্লাড গলায় ও নাকে মনে হয় জমে গেছে, আবার গেলাম ডাক্তারের কাছে তারা আমাকে রেগে বললেন আপনি কি ডাক্তার, আমি বললাম স্যার কিছুটা হলেও বুঝতে পারছি প্লিজ চলেন, আমাকে বললেন আপনি জান আমি আসতেছি প্রায় ১০ মিনিট পর আবার গেলাম তারা আমাকে কোন গুরুত্ব দিচ্ছেনা তখন নিরুপায় হয়ে আমি আমার পরচিয় দিলাম, বললাম ম্যাডাম আমি একজন সাংবাদিক, এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে দুজনে চেয়ার থেকে উঠে সোজা রোগীর কাছে এলেন আর বললেন দ্রুত অক্সিজেন লাগান এবং গলা ও নাকে পাইপ দিয়ে পরীস্কার করতে বললেন । তারপর অক্সিজেন লাগালেন এবং পরীস্কার করার মেশিন নিয়ে এলেন ওয়ার্ড বয়, ৯নং বেডের পার্শ্বে ইলেকট্রিক বোর্ড অকেজে আমাকে বললেন একটি মালটি প্লাগ নিয়ে আসেন দ্রুত তা কিনে আনা হল তারপর অন্য বোর্ড থেকে কালেকশন দিয়ে মেশিন দিয়ে পরীস্কার করলো। কাজ শেষে বললো টাকা দেন আমি বললাম কিসের জন্য বললো কাজ করলাম তার জন্য বললাম কত দিতে হবে বললো ১ হাজার কথা না বাড়িয়ে ৭শত টাকা হাতে দিলাম এবং বললাম আমার রোগীকে দেখাশুনা করবেন আপনাকে আরও দিব। ইতোমধ্যে তার সাথে একটা সম্পর্ক গড়ে তুললাম আবার তাকে ১শত টাকা দিয়ে বললাম ভাই আপনার নাম কি না বলে বললেন দেখেন ভাই এই টাকা আমি একাই খাইনা আমরা সবাই ভাগ করে নেই। আমি বললাম কিভাবে সে বললো দুই শিফটে আর কিছু না বলে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর আবার তাকে বললাম আই আপনার পদবী কি? সে বললো ওয়ার্ড বয়। সে আবার আমার ভাইকে একটু চেক করলো আর বললো আমার ডিউটি শেষ আমি অন্য জনের সাথে আপনার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি দাড়ী ওয়ালা ভদ্র লোক তার সাথে পরিচয় হল তাকে ১শত টাকার একটা নোট দিলাম ষে খুশি হয়ে আমার ভাইকে দেখলো আর বললো আবার ওয়াশ করতে হবে গলায় এবং নাকে ব্লাড জমে গেছে এরই মধ্যে রোগীর পেট ফুলে গেছে সে বললো স্যারকে বলেন ওর প্রশাব বাহরি করতে হবে। আমি দৌড়ে গিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলাম যেয়ে দেখি একজন পুরুষ বসে আছে সঙ্গে কাগজটা ছিল তা দেখে উনি ক্যাথেটার (প্রশাব) বাহির করার ব্যাগ, সিরিজ, হ্যান্ড গ্লোবস ও টেপ লিখে দিল, আমি ডাক্তারকে বললাম স্যার এগুলোতো এখানথেকে দেয়ার কথা সামান্য জনিসি উনি জবাব না দিয়ে বললেন নিয়ে আসেন আবার কিনে আনলাম ওই দাড়ি ওয়ালা ওয়ার্ডবয় পূনরায় ওয়াশ করলো ও প্রশাবের রাস্তায় লাগিয়ে দিল। সে আবার টাকা চেয়ে বসলো আমি বললাম ওই ভাইকে তো দিয়েছি সে বললো ওর ডিউটি শেষ এখন আমাকে দেন বাধ্য হয়ে আবার তাকেও ৭শত টাকা দিলাম। রাত প্রায় ১টা আবার ডাক্তারের রুমে গিয়ে বাধ্যহয়ে ওনাকেও পরিচয় দিলাম, আর বললাম আমাকে খোলামেলা ভাবে বলেন আমার রুগীর কি অবস্থা, তখন ডাক্তার সাহেব উঠে এসে রোগীকে দেখে বললো সিটি ক্স্যান না করলে কোন বলা যাচ্ছেনা। তবে আজকে ঈদের দিন সব বন্ধ কাল সকালে আমাদের বড়স্যার আসবে নোট দেয়া আছে চিকিৎসা হবে। এদিকে ক্রমানয়ে রোগীর অবস্থা খারাপ হচ্ছে রাত ৩টায় আবার ডাক্তারের কাছে তিনি বললেন ফারুক সাহেব স্যালাইন আর অক্সিজেনতো চলছেই তবে আপনি শক্ত মনের মানুষ মনে হচ্ছে, যাই হোক যদি সকাল পর্যন্ত আপনার রোগী ঠিক থাকে তাহলে হয়তো বেচে যাবে। কিন্তু আর সকাল হলোনা আমার ভাই ভোর ৬টায় পৃথিবীর বুক থেকে চীর বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।

দুঃক্ষের বিষয় হচ্ছে রংপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে যখন টাকা ছারা কিছুই হয় না তা হলে সেখানে গিয়ে লাভ কি? একটা সিরিঞ্জও কিনে আনতে হয়। হায়রে এটাই কি আমাদের সোনার বাংলাদেশ, ধিক্কার জানাই এ জাতীকে। শুধু বাজেটে দেখি বা শুনি সর্বচ্চ বরাদ্দ স্বাস্থ্যখাতে কোন ঔষধ পত্রও পাওয়া যায়না হাসপাতালে। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু ঠিকেই বলেছিলেন সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পেয়েছি চোরের খনি। বঙ্গবন্ধু তোমার কথা আজ চীর সত্য। তুমি চীরঞ্জীব হও।

ঈদের চার দিন আগে আমার প্রয়াত ভাই মিজানুর ওর বন্ধুদের বলেছিলেন কোরবানির চাঁদে যারা মারা যায় তারা নাকি জান্নাতবাসী হয়, তার বন্ধু আমাকে বললো ফারুক ভাই আমরা দেখলাম আমাদের রেল লাইনের গিড়িয়া ব্রিজের উপর কে জেন একা বসে আছে তখন এক পা দু পা করে এগিয়ে গেলাম দেখি মিজানুর ভাই। তাকে বললাম কি মিজান ভাই একা বসে কি চিন্তা করিস সে বললো নারে ভাই শরীরটা ভাল না তাই বসে আছি। তারপর সে বললো জায়গা জমি গুলো দেখতেছি আমি মনে হয় বাঁচবোনা আর ঈদের মাংসও মনে হয় ক্ষেতে পারবোনা। আমরা বললাম ফালতু চিন্তা বাদ দে সে বললো আর নারে ভাই আমি কিন্তু কোরবানির মাংস ক্ষেতে পারবোনা আমরা বললাম কেন সে বললো আমার হাই প্রেসার তখন আমরা বললাম ঈদের মাংস খাওয়া যাবে, সে আবারও বললো বেঁচে থাকলে তো খাব? আমি মনে হয় বাঁচবোনা।

চাঁদ রাতের যা কথাঃ
রাতের খাবার সেরে যথারিতি (চাঁদ রাতে) ওরা স্বামী স্ত্রী ও বাচ্চাদের নিয়ে ঘুমাচ্ছে, সে তার স্ত্রীকে বলছে আজ শুক্রবার যদি ঈদ হত তা হলে মাংস খেতাম, ওর স্ত্রী বললো রাত শেষ হলে তো কোরবানি ব্যাস্ত হইছো কেন? সে বললো নারে খুব ইচ্ছা করছে। তুমি এমন করতেছো কেন? সে বললো ঈদের দিনে তো মাংস ক্ষেতে পারবোনা। তুমি কি জান কোরবানির চাঁদ মাসে যারা মারা যায় তারা নাকি জান্নাতবাসী হয়। ওর স্ত্রী বললো রাখোতে এসব কথা এখন ঘুমাও ও বললো তোর কাছে আর ঘুমাবো না খামাখা মহাব্বাত বৃদ্ধিকরে কি হবে? সে তখন বিছানা থেকে উঠে তার ঘুমান্ত বাচ্চা দুটিকে চুমু দিয়ে বাহির হয়ে আমার সন্তান হৃদয়ের রুমে এসে ঘুকলো সে হৃদয়কে বললো বাবা তুমিকি জান যে এ মাসে য়ারা মারা যায় সে বেহেস্তে যাবে আমার ছেলে বললো চাচ্চু তুমি এখন ঘুমাওতো আমার ঘুম পাচ্ছে। সে আবার তাকে বললো কালকেতো মাংস ক্ষেতে পারি কি না আল্লাহ জানেন আমার মনটা কমেন যেন করছে।

আমার পরিবারে আমর মা, একমাত্র বোন, তার বিয়ে দিয়েছি তার ১ কন্যা সন্তান। আমার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে, ভাইয়ের এক ছেলে বয়স ৬ বছর আর মেয়ের বয়স ১ বছর ৬ মাস। বাবাকে হারিয়েছি গত ১০ জুন ২০১৯ আর ভাইকে হারালাম ২ আগস্ট ২০২০ খ্রিঃ, সে বানিয়াপাড়া আজিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরীর চাকুরী করতেন। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন আমি যেন আমার উপর আল্লাহর দেয়া অর্পিত দ্বায়িক্ত পালন করতে পারি। প্রিয় পাঠক কিছুটা হলেও আমার প্রয়াত ভাই মিজানুরকে নিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করেছি অন্য ভাবে নেবেন ন। ভূলত্র“টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্ঠিতে দেখবেন। আমিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।