রোনালদোর জাদু, দুর্দান্ত জয় পর্তুগালের

ছায়াপথ ডেস্ক : পায়ের ইনফেকশনের কারণে ছিলেন না আগের ম্যাচে, তবু তার দল জিতেছিল ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে। সেই ম্যাচটিতে যদি খেলতে পারতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, তাহলে যে ম্যাচের ফলাফল আরও বিধ্বংসী হতো- তার প্রমাণ দ্বিতীয় ম্যাচেই দিলেন বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এ ফুটবলার।

একে তো করোনা ঝুঁকি, তার ওপর নতুন করে দেখা দেয়া ইনফেকশন; ফলে খানিক সংশয়ই ছিল জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর মাঠে নামা নিয়ে। তিনি শুধু ফেরেননিই, জিতিয়েছেন দলকে, করেছেন জোড়া গোল। রোনালদোর জোড়া গোলে ভর করেই সুইডেনকে ২-০ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল।

টানা দুই জয়ে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা ধরে রাখার পথে ভালোভাবেই এগোচ্ছে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপে ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া ও সুইডেনের মতো দল থাকায় আপাতদৃষ্টিতে এটিই টুর্নামেন্টের ডেথ গ্রুপ। এই গ্রুপে খেলেই দুই ম্যাচে মোট ৬ গোল করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে ফার্নান্দো সান্তোসের শিষ্যরা।

দাপুটে ফুটবলে ক্রোয়াটদের ৪-১ গোলে উড়িয়ে আসর শুরু করা পর্তুগালের প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স অতটা আহামরি ছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্ধে স্বরূপে ফেরা দলটির সামনে কোনো বাধাই দাঁড় করাতে পারেনি সুইডেন। ২০তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো তারা; কিন্তু ডান দিক থেকে ব্রুনো ফের্নান্দেসের দারুণ বাঁকানো ক্রসে গোলমুখে বলে পা লাগাতেই পারেননি পেপে। পাঁচ মিনিট পর কর্নারে রোনালদোর নিচু শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় পা দিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক রবিন ওলসেন।

৪০তম মিনিটে ওলসেনের দৃঢ়তায় অপেক্ষা বাড়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে শততম গোলের পথে থাকা রোনালদোর। ফের্নান্দেসের থ্রু বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে জোরালো শট নেন তিনি; দারুণ নৈপুণ্যে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান গোলরক্ষক।

৫ মিনিট পরই জাতীয় দলের হয়ে গোলের সেঞ্চুরি পূরণ করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে রক্ষণ প্রাচীরের ওপর দিয়ে দুর্দান্ত বাঁকানো ফ্রি-কিকে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। ১৬৫ ম্যাচ খেলে দারুণ এই কীর্তি গড়লেন জুভেন্টাস তারকা।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই তারকার চেয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বেশি গোল করেছেন কেবল ইরানের সাবেক স্ট্রাইকার আলি দাই, ১০৯টি।

গোল হজমের আগেই বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। জোয়াও মোতিনিয়োকে বাজেভাবে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার গুস্তাভ সভেনসন। ওই ফ্রি-কিক থেকে দলকে এগিয়ে নেন রোনালদো।

৬১তম মিনিটে একটুর জন্য ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি। রাফায়েল গেররেরোর ক্রসে ফের্নান্দেসের ভলি ক্রসবারে লাগে। ব্যবধান দ্বিগুণ হতে অবশ্য খুব বেশি দেরিও হয়নি। ৭২তম মিনিটে রোনালদোর আরেকটি চমৎকার গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সফরকারীরা। জোয়াও ফেলিক্সের পাস ধরে ডি-বক্সের মুখ থেকে জোরালো কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান জুভেন্টাস তারকা।

শেষ দিকে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। দারুণ দুটি সুযোগ পেয়েছিলেন তরুণ ফরোয়ার্ড ফেলিক্স, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। প্রথমবার গোলমুখে ঠিকমতো বলে পা লাগাতে পারেননি তিনি আর তার দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ঝাঁপিয়ে ঠেকান ওলসেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।